
চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি ও আধুনিকায়নের লক্ষ্যে ৫৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয়ে নির্মাণাধীন লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনালের খসড়া নকশা ও পরিচালনা পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে নেদারল্যান্ডসভিত্তিক বৈশ্বিক টার্মিনাল অপারেটর এপিএম টার্মিনালস। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, প্রয়োজনীয় অনুমোদন পাওয়া গেলে চলতি বছরের ডিসেম্বরেই নির্মাণকাজ শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে এটি হবে বাংলাদেশের প্রথম শতভাগ বিদেশি বিনিয়োগে নির্মিত কনটেইনার টার্মিনাল। বছরে ৮ লাখ টিইইউর বেশি কনটেইনার পরিচালনার সক্ষমতা নিয়ে এটি চট্টগ্রাম বন্দরের কনটেইনার হ্যান্ডলিং ক্ষমতা প্রায় ২৩ শতাংশ বাড়াবে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রকাশিত নকশা অনুযায়ী, টার্মিনালটি ৬ হাজার টিইইউ ধারণক্ষমতার কনটেইনার জাহাজ পরিচালনায় সক্ষম হবে, যা বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দরে ভেড়া জাহাজগুলোর ধারণক্ষমতার দ্বিগুণেরও বেশি। এখানে ১০ দশমিক ৫ মিটার ড্রাফটের ৬১৩ মিটার দীর্ঘ জেটি, সাতটি শিপ-টু-শোর ক্রেন, ৩২টি বিদ্যুৎচালিত রাবার টায়ারযুক্ত গ্যান্ট্রি ক্রেন এবং ৪১টি বিদ্যুৎচালিত টার্মিনাল ট্রাক্টর থাকবে।
গত বছরের ১৭ নভেম্বর সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব (পিপিপি) মডেলের আওতায় টার্মিনালটির নকশা, অর্থায়ন, নির্মাণ ও ৩০ বছর পরিচালনার জন্য চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে চুক্তি করে এপিএম টার্মিনালস।
বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দরে বড় কনটেইনার জাহাজ ভিড়তে না পারায় অধিকাংশ পণ্য ছোট ফিডার জাহাজে পরিবহন করতে হয় এবং কলম্বো ও সিঙ্গাপুরের মতো বন্দর হয়ে ট্রান্সশিপমেন্ট করতে হয়। এতে সরবরাহে অতিরিক্ত ৭ থেকে ১৪ দিন সময় লাগে এবং লজিস্টিকস ব্যয় বৃদ্ধি পায়।
নতুন টার্মিনাল চালু হলে বড় মেইনলাইন কনটেইনার জাহাজ সরাসরি চট্টগ্রামে ভিড়তে পারবে। এতে ট্রানজিট সময় কমবে, পণ্য ওঠানো-নামানোর অতিরিক্ত ধাপ কমবে এবং সামগ্রিক লজিস্টিকস ব্যয় হ্রাস পাবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই টার্মিনাল চালু হলে তৈরি পোশাক খাতের পাশাপাশি ওষুধ, চামড়া ও পাদুকা শিল্পও উপকৃত হবে। এপিএম টার্মিনালসের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে টার্মিনালটি পূর্ণাঙ্গভাবে পরিচালনায় আসতে পারে।